সুদূর অতীতেও ছিল কনডমের ব্যবহার!

কনডম নিয়ে ট্যাবু দূর করা এবং তার ব্যবহারের সুফল সম্পর্কে প্রচার চালানো হচ্ছে বহু দিন ধরেই। প্রাচীন সময় থেকে জন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং যৌনরোগ থেকে বাঁচতে এর ব্যবহার হয়ে আসছে। ইতিহাসেও এর প্রমাণ মেলে।
একাধিক ইতিহাসবিদের দাবি, ১১ হাজার খ্রিস্টপূর্বাব্দে ফ্রান্সের গুহাচিত্রে কনডম ব্যবহারের প্রথম নিদর্শন রয়েছে। তবে তা আধুনিক কনডমের চেয়ে ছিল অনেকটাই আলাদা। কখনো পশুর শিং, পশুর চামড়া, খাদ্যনালি আবার কখনো ছিল ধাতব আস্তরণ।
এবার তাহলে জেনে নিন কনডম ব্যবহারের প্রকৃত ইতিহাস।
পঞ্চদশ শতকে গ্ল্যানস কনডমের ব্যবহার শুরু হয়। ওই সময়ে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এর ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। সাধারণত উচ্চ শ্রেণির মানুষদের মধ্যেই জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য এর প্রচলন ছিল।

ষষ্ঠদশ শতকে ইউরোপজুড়ে যৌন রোগ সিফিলিস ছড়িয়ে পড়ায় ইতালির চিকিৎসক গ্যাব্রিয়েলি ফ্যালোপিয়ো (তার নামানুসারে স্ত্রী যৌনাঙ্গ ফ্যালোপিয়ান টিউবের নামকরণ) একটি বিশেষ রাসায়নিকে সিক্ত করা লিনেন আবরণ বানান পেনিসের জন্য, যা সঙ্গমের সময় পেনিসে জড়িয়ে ফিতে দিয়ে বেঁধে দেওয়া হতো। কয়েকজন পুরুষকে এটি ব্যবহার করিয়ে তিনি নিশ্চিত হন, এতে সিফিলিস ঠেকানো সম্ভব। এটাই প্রথম কনডম, যা এসটিডি বা যৌনরোগনিরোধক।

১৮৫৫ সালে প্রথম রাবার কনডম তৈরি হয়। তবে সে সময় এর দাম বেশি হওয়ায় সমাজের ধনীরাই তা ব্যবহার করতেন। তৈরির পর এতে ত্রুটি রয়েছে কি না জানতে তার মধ্যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর গ্যাসোলিন এবং বেঞ্জিন ভরা হতো।

১৯২০ সালে ল্যাটেক্স আবিষ্কারের পরই অনেকটা বদল আসে কনডমে। ল্যাটেক্সে উৎপাদনের খরচ কম হওয়ায় মানুষের কাছে সহজলভ্য হয়ে যায় কনডম। ১৯৫৭ সালে কনডমের মান আরও উন্নত হয়। এই সময়ে একটি ব্রিটিশ সংস্থা কনডম লুব্রিকেন্টের বিশেষ ব্যবহার শুরু করে।
১৯৮০ সালে দুনিয়াজুড়ে এইডসের প্রাদুর্ভাব হলে কনডমের ব্যবহার আরও বেড়ে যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *