নিশ্বাসের সঙ্গেও প্লাস্টিক গ্রহণ করছি আমরা!

প্লাস্টিক-দূষণের চিত্র আমরা চোখের সামনেই দেখছি প্রতিনিয়ত। সাগরে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলায় অহরহ মারা যাচ্ছে সামুদ্রিক প্রাণী। কিন্তু গবেষকরা আবিষ্কার করেছেন, প্লাস্টিকের দূষণ আরও ভয়াবহ পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে। মাটি, পানি এবং বাতাসের মাধ্যমেও প্রতিনিয়ত আমাদের শরীরে প্রবেশ করছে ‘মাইক্রোপ্লাস্টিক’ তথা প্লাস্টিকের অতি ক্ষুদ্র কণা।
২২ এপ্রিল, রবিবার সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা। প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য ক্ষয়ে গিয়ে এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক তৈরি হয়। বিগত কয়েক বছরে মাটি, কলের পানি, বোতলজাত পানি এমনকি বাতাসেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা। তাই মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর এর প্রভাব নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তারা।

মাইক্রোপ্লাস্টিক নিয়ে এখনো তেমন বিস্তারিত গবেষণা হয়নি। তবে বিজ্ঞানীদের মতে, পানির চেয়ে মাটিতে এর পরিমাণ বেশি। মাটিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক আসার পেছনে সবচেয়ে বড় উৎস সম্ভবত সার। পয়ঃনিষ্কাশন প্রণালি থেকে আসা সার অনেক দেশেই মাটি উর্বর করতে ব্যবহার হয়। এতে থাকতে পারে প্রচুর পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক।
সাম্প্রতিক আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বোতলজাত পানিতে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মাইক্রোপ্লাস্টিক।

শুধু মাটি ও পানি নয়, বাতাসেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করা গেছে। কিংস কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক ফ্র্যাঙ্ক কেলি লন্ডনের বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছেন। তিনি জানিয়েছেন, বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিক আছে তা নিশ্চিত। কী পরিমাণে আছে তা বের করতেই গবেষণা করা হচ্ছে।
বাতাসে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির কারণও সম্ভবত সার। সার শুকিয়ে গেলে তা বাতাসের সঙ্গে ভেসে চলে যেতে পারে। ঘরের ভেতরে এবং বাইরে উভয় জায়গায় পাওয়া গেছে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি। প্লাস্টিকের তৈরি বিভিন্ন পণ্য ব্যবহারের কারণে মাইক্রোপ্লাস্টিক বাতাসে মিশে যেতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি কী ক্ষতি করতে পারে? গবেষকদের ব্যাখ্যা মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণার সঙ্গে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া আটকে থাকতে পারে। আমাদের শরীরের ভেতর মাইক্রোপ্লাস্টিকের সঙ্গে সঙ্গে এসব ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে ফেলতে পারে।

আরেকটি সমস্যা হলো, প্লাস্টিকের সঙ্গে বিভিন্ন রাসায়নিক মেশানো হয়। এসব রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করে আমাদের অসুস্থ করে দিতে পারে। এমনকি রাসায়নিকের মাত্রা বেশি হলে তা আমাদের কোষের মৃত্যুর কারণও হতে পারে।
মাইক্রোপ্লাস্টিক যদিও হজম হয় না, এগুলো বেশি ছোট কণিকায় ভেঙে গেলে তা হজম হয়ে আমাদের বিভিন্ন অঙ্গে জমা হতে পারে। তবে এ সবই ধারণা। নিশ্চিত করে কিছুই বলা যাচ্ছে না। এ কারণে গবেষকরা আরও বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে হাঁটছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *