অস্ত্রোপচার ছাড়াই শনাক্ত হবে প্রস্টেট ক্যান্সার

পুরুষের প্রস্টেটে টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় করতে আগের চেয়েও নিখুঁত এবং কমদামি একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন স্কটল্যান্ডের গবেষকরা।
২২ এপ্রিল, রবিবার সংবাদমাধ্যম দ্যা গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে স্কটল্যান্ডের ডান্ডি ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নতুন এই উদ্ভাবনের কথা জানানো হয়েছে।

পুরুষের যেসব ক্যান্সার হয় তার মাঝে অন্যতম হলো প্রস্টেট ক্যান্সার। যুক্তরাজ্যের প্রতি আটজনে একজন পুরুষের জীবনে কোনো-না-কোনো সময়ে এই ক্যান্সার হতে দেখা যায়। ৫০ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষ, পরিবারে প্রস্টেট ক্যান্সারের ইতিহাস থাকা এবং কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের প্রস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি থাকে বেশি।

ডান্ডি ইউনিভার্সিটির ওই গবেষকদের নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক গুলাম নাবি জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রস্টেট ক্যান্সার শনাক্তের যে পদ্ধতি প্রচলিত, তা খুব একটা কার্যকরী নয়, অনেক রোগীকেই অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। নতুন উদ্ভাবিত পদ্ধতিটি অনেক বেশি কার্যকর—দাবি করেন নাবি। কোনোরকম অস্ত্রোপচার ছাড়াই এই পদ্ধতিতে ক্যান্সার টিস্যু শনাক্ত করা যাবে।
প্রস্টেট হলো পুরুষ জননতন্ত্রের একটি ছোট গ্রন্থি। প্রস্টেটে ক্যান্সার হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে বর্তমানে তিন ধরনের পদ্ধতি প্রচলিত। এগুলো হলো—ডিআরই (ডিজিটাল রেকটাল এক্সামিনেশন), এমআরআই স্ক্যান, বায়োপসি বা রক্ত পরীক্ষা। এর কোনোটিই নির্ভুল নয়। ডিআরই পদ্ধতিতে বোঝা যায় না কোন টিউমারটি বিনাইন (নিরীহ) আর কোনটি ম্যালিগন্যান্ট (ক্ষতিকর), এমআরআই স্ক্যানে সব সময় ভালো ফলাফল পাওয়া যায় না, রক্ত পরীক্ষা নির্ভুল হয় না, আর বায়োপসি অস্ত্রোপচারে প্রচুর খরচ হয় এবং তাতে ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ার ভয় থাকে।

নতুন উদ্ভাবিত এই পদ্ধতিতে এই সমস্যাগুলো সবই দূর হবে। শেয়ার ওয়েভ ইলাস্টোগ্রাফি (এসডাব্লিউই) নামের এক ধরনের আলট্রাসাউন্ড পদ্ধতিতে প্রস্টেটে টিউমারের উপস্থিতি নির্ণয় করা যাবে কোনো অস্ত্রোপচার ছাড়াই।
অধ্যাপক নাবি দাবি করেছেন, এমআরআইতে যেসব টিউমার ধরা পড়েনি, এই আলট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে সেসব টিউমারকেও শনাক্ত করা যাবে। এ ছাড়া ওই টিউমার কতটা রোগাক্রান্ত, তার জন্য কী মাত্রায় চিকিৎসা দরকার—এটাও বোঝা যাবে এই পদ্ধতিতে। তাদের গবেষণায় ২০০ জন রোগীর ওপর এই পদ্ধতি পরীক্ষা করা হয়েছে। নাবি জানিয়েছেন, আরও বৃহৎ পরিসরে এই পদ্ধতি পরীক্ষা করে দেখতে হবে। তবে এই পদ্ধতি ভবিষ্যতে অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে কাজে আসবে বলে তিনি আশাবাদী।

এসডাব্লিউই পদ্ধতিটি ইতোমধ্যেই স্তন ক্যান্সার এবং যকৃতের রোগ শনাক্তে ব্যবহার হয়। তবে প্রোস্টেট ক্যান্সার শনাক্ত করতে একটি বিশেষ যন্ত্রাংশ তৈরি করেছে গবেষক দলটি। এর মাধ্যমে সহজেই পদ্ধতিটিকে কাজে লাগানো গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *