ফেসিয়াল সিরামঃ কি, কেন , কিভাবে?

সিরাম’ শব্দটা বারবার চোখে পড়ছে? ফেসবুকে, বিজ্ঞাপনে, পত্রিকায়… সব স্কিন কেয়ার রুটিনে শুধু সিরাম আর সিরাম… কিন্তু ‘সিরাম’ টা কি? সেটাই বোঝা কঠিন, রাইট?

আপনি একা নন। সিরাম নিয়ে এই কনফিউশনে অনেকেই আছেন আজকাল। হাজারো প্রশ্ন, কিন্তু কোন ক্লিয়ার উত্তর নেই। তাই না? এক প্রোডাক্টের সাথে আরেক প্রোডাক্টের আকাশ পাতাল তফাৎ, কিন্তু দুটোই নাকি ‘সিরাম’। কিভাবে সম্ভব? আবার দামও এইসবের আকাশ-ছোঁয়া! মানে? না বুঝেই ২০০০-৩০০০ টাকা দিয়ে একটা ‘সিরাম’ কিনবেন?

স্কিন কেয়ারের নতুন কিন্তু এক্সাইটিং এই স্টেপ নিয়েই আজকের আলোচনা।

সিরাম আসলে কি?

একেবারে ফ্রেশ ক্লিন স্কিনে হাইলি কনসেনট্রেটেড পাওয়ারফুল উপাদান খুব লাইট থিন ফর্মুলার সাহায্যে ডেলিভারি করার আইডিয়াটাই সিরাম। এতে স্কিনের একটা নির্দিষ্ট সমস্যাকে টার্গেট করা সম্ভব। সিরাম এমনভাবে তৈরি করা হয় যেখানে এর অনলি টার্গেট থাকে স্টার উপাদানগুলোকে স্কিনের ডিপ লেয়ারে পৌঁছে দেয়া। আর কিছু না। ময়েশচারাইজ করা, ক্লিন করা এসব কাজ কর্ম স্কিন কেয়ারের  অন্য স্টেপের হাতে ছেড়ে দেয়া হয়।  ফলে, স্কিনের বেসিক সমস্যা, যেমন দাগ ছোপ, রিঙ্কেল, ব্রন এধরনের বড় বড় প্রবলেম গুলোকে পিন পয়েন্ট করে সল্ভ করা যায়।

 

সিরাম’ কি ‘ক্রিম’ থেকে আলাদা?

উত্তর একই সাথে ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ । লাস্ট প্যারায় কি বলেছিলাম মনে আছে? সিরামে একটি নির্দিষ্ট প্রবলেম সল্ভ করার জন্য ইনগ্রেডিয়েনট থাকে, রাইট? এখন যদি কোন সিরাম স্পেসিফিকালি খুব ড্রাই ও রাফ স্কিনের জন্য ফরমুলেট করা হয়, এতে অবভিয়াসলি এমন উপাদানই থাকবে যা স্কিনে ড্রাইনেস কমাবে। একটা উদাহরণ দেখি? ‘বডিশপ ভিটামিন-ই ফেসিয়াল সিরাম ইন ওয়েল’ প্রোডাক্টের কথাই ধরি, যেহেতু এটা ড্রাই স্কিনের প্রবলেমের জন্য তৈরি এবং এটায় ময়েশচারাইজিং উপাদান অনেক বেশি। এখন আপনি যদি একটা ক্রিম নেন, সেটাও স্কিনের ড্রাইনেস কমাবে। দুটো একি সাথে কাজ করে ড্রাইনেস দূর করে স্কিনকে স্বাভাবিক করে তুলবে।

কিন্তু, ধরুন আমি একটা সিরাম নিলাম যা ব্রণের প্রবলেম সল্ভ করে, সেই প্রোডাক্টে একটুকুও ময়েশচারাইজিং উপাদান থাকবে না সেটাও হতে পারে। তাই, বেসিকালি-

সব ক্রিম ময়েশচারাইজ করে, বাট সব সিরাম ময়েশচারাইজ করে না।

ক্রিম, স্কিনের বাইরে একটা অয়েলের লেয়ার তৈরি করে স্কিনের ময়েশচার বাইরে চলে যাওয়া আটকায় । দ্যাটস ইট!

বাট, একটা ড্রাইনেস প্রিভেনটিং সিরাম স্কিনের সেল গুলোকে এমন ভাবে কনট্রোল করার ট্রাই করে যাতে স্কিন নিজেই ওয়েল-ওয়াটার ব্যালেন্স বজায় রাখতে শেখে।

সিরাম আর ক্রিমের মধ্যে কোন সম্পর্কই নেই। সেভাবে ভাবলে। ‘ক্রিম’ কখনোই একটা সিরামের সাবস্টিটিউট হতে পারে না।

ডেইলি কবার সিরাম ইউজ করতে হবে? আর  কখন?

এটা পুরোপুরি সেই সিরামের উপরে নির্ভরশীল। জাস্ট বোতলের লেখাগুলো পড়ে দেখুন। সব সিরামেই খুব ক্লিয়ারলি লেখা থাকবে কতবার সিরাম ইউজ করতে হবে ডেইলি। বাট, এসিড/ রেটিনল যুক্ত সিরামগুলো দিনে একবার, স্পেসিফিকালি রাতের বেলা ইউজ করাই যথেষ্ট।

আর দামের জন্য যদি সিরাম দিনে দুবার ইউজ করতে না চান, সেক্ষেত্রেও রাতে একবার ইউজ করলে বেটার রেজাল্ট পাবেন। রাতে স্কিনের ন্যাচারাল রিপেয়ার সিস্টেম চালু হয়, তাই তখন সিরামের উপাদানগুলো সেই সিস্টেমকে হেল্প করে।

কিভাবে সিরাম লাগাব?

সিরাম লাগাবার বেসিক রুল হল, ফেসওয়াশ এবং টোনারের পড় সিরাম লাগাতে হবে। জাস্ট ২-৩ ড্রপ। ভালো প্রোডাক্ট হলে এর থেকে বেশি কোনভাবেই লাগবে না। অনেকে ক্রিমের মতো প্রায় আধা চামচ মেখে ফেলেন। দরকার নেই। বেশি মাখলে বেশি উপকার- এমন কোন থিওরি এখানে কাজ করবে না।

সিরাম স্কিন শুষে নিলে তারপরই স্কিনে ক্রিম বা ময়েশচারাইজার লাগাবেন।

এক নজরে স্কিনকেয়ারের স্টেপ গুলো-

ফেসওয়াশ > টোনার > সিরাম > ক্রিম

পুরো রুটিন ৪-৫ মিনিটে কমপ্লিট হবে।

সিরামের দাম এতো বেশি কেন?

‘এতটুকু একটা বোতল! ৩ হাজার টাকা দাম !! ‘

সিরামের দাম এক জার ক্রিমের ডাবল বা তারও বেশি হয়। জি, পণ্ডস ক্রিমের থেকেও পণ্ডস সিরামের দাম এমনভাবেই বেশি। কিন্তু যেহেতু ইউজারদের কাছে সিরাম স্টেপটাই নতুন আর ফরমুলেশন সম্পর্কে বেসিক নলেজ কম, দাম সম্পর্কে নেগেটিভ কমেন্টের অন্ত নেই।

বেসিকালি সিরামে একটা খুব পাওয়ারফুল উপাদান বেশি পরিমাণে দেয়া হয়। দেখা যায় সেই একই রেঞ্জের ক্রিমে সেই উপাদান ২% ও থাকবে না। বাট সিরামে ৩০-৫০% দেয়া আছে। কারন সিরামের ক্ষমতা আছে উপাদানটাকে স্কিনের আসলেই কাজে লাগানো। ক্রিম যেন কি করবে? স্কিনের ময়েশচার বজায় রাখবে। রাইট? তাই উপাদানের দামের কারণেই সিরামের দামটা বেড়ে যায়। নিশ্চয়ই বাজারে গিয়ে আধা কেজি আলু আর ৫০ কেজি আলুর দাম আপনি সেম পাবেন না, তাই না? তাই ৫০% একটিভ উপাদানের দাম ২% এর সমান হবে সেটা কিভাবে সম্ভব?

আচ্ছা, সিরাম কি লাগবেই? না কিনলে হয় না?

পুরোপুরি আপনার স্কিনের উপরে ডিপেনড করে। নিজের ত্বকের দিকে তাকান, আপনার স্কিনের বেসিক সমস্যা কি? রিঙ্কেল, ব্রন, ডার্ক প্যাচ এসব আছে? নাকি নেই? যদি এসব সমস্যার একটিও থাকে তাহলে অবশ্যই নিজের ত্বকের সমস্যা আর বাজেট বুঝে একটা ভালো সিরাম খুঁজলে বুদ্ধিমানের কাজ করবেন।

কিন্তু, আপনার কি বয়স খুবি কম, ত্বকের প্রবলেম বলতে জাস্ট ট্যান, ধূলা ময়লা জমে ব্রন ব্ল্যাকহেড এসব হয়? আফকোর্স টিনএজার বলে কথায় কথায় হাজার টাকা স্কিন কেয়ারের পেছনে ঢালবেন না! উচিতও নয়। তাই, আপনার সিরাম কেনার দরকার নেই। বেসিক স্কিন কেয়ার, সান প্রটেকশনের মাধ্যমেই এসব সমস্যা সল্ভ করা যায়।

নিজের সিরাম দরকার কিনা সেই প্রশ্নের উত্তর নিজেই নিজের বাজেট, স্কিন দেখে দেবেন।

বাজেট কম? কিন্তু সিরাম লাগবে? একটু সেভ করে একটা ভালো প্রোডাক্ট কিনুন। অনেক বছরের ট্রায়াল অ্যান্ড এররের মাধ্যমে জানি, একটা ভালো প্রোডাক্ট ১০০ টা আজেবাজে প্রোডাক্টের থেকে ভালো কাজ করে। তাই কম দামে ‘সিরাম’ কিনে জিতে গেছেন ভাবছেন?

ভুল ভাবছেন!!

কিন্তু নিজের স্কিনের জন্য রাইট সিরাম খুঁজব কিভাবে?

এখন এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আরও ২০০০ শব্দের একটা রচনা হবে। আর এক প্যারায় কিছুই বোঝাতে পারব না। এরচেয়ে বরং আজকের লেখাটা এখানেই শেষ করি? বিভিন্ন স্কিন টাইপের জন্য সিরাম খুঁজতে গেলে কি উপাদান খুঁজবেন, কোন রেঞ্জে খুঁজবেন আর বিভিন্ন প্রবলেমের জন্য আলাদা আলাদা রেঞ্জে কিছু ভালো প্রোডাক্ট নিয়ে শীঘ্রই লিখব।

আপনারা এখানে একটু হেল্প করতে পারেন। নিজের বাজেট রেঞ্জ কেমন সেটা আর নিজের বয়স, স্কিন প্রবলেম জানিয়ে রাখতে পারেন কমেন্টে। নেক্সট লেখার সময় সেই প্রবলেম আর রেঞ্জগুলো মনে রেখে প্রোডাক্ট শর্টলিস্ট করলেই আপনাদের বেশি হেল্প হবে, তাই না?

আশা করি কিছু কনফিউজিং প্রশ্নের উত্তর আজকে দিতে পেরেছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *