চুল পড়া কমাতে প্রয়োজনীয় টিপস

“অবন্তির ইদানিং চুল আঁচড়াতেই ইচ্ছে করে না, কারণ চুল আঁচড়াতে গেলেই চিরুনিতে প্রতিবারই লেগে থাকে এত এত চুল।”

“ইশানার বাড়ির কাজের মহিলাটা প্রায় প্রতিদিনই ঘর মোছার সময় তাকে জিজ্ঞেস করে মেঝেতে এত চুল কোথা থেকে আসে।”

“ঠিক দুইমাস পরই ত্রয়ীর বিয়ে আর তার মধ্যে কিছুতেই  সে তার চুল পড়া কমাতে পারছে না। হেয়ার ব্যান্ড খুলতে গেলেও দেখা যাচ্ছে চুল ওঠে চলে আসছে ব্যান্ডের সাথেই।”

ওরা তিনজনই আমার কাছের মানুষ। কি? বুঝতে পারছেন তো? ওদের সবার একটাই সমস্যা। আর সেটা হল চুল পড়া। আর আমিও কিন্তু একই সমস্যায় ভুগেছিলাম ওদেরই মত। আমার অনেক চুল পড়ত। কিন্তু প্রথম প্রথম আমি এত মাথা ঘামাই নি ব্যাপারটা নিয়ে। কিন্তু যখন বেশ কিছুদিন ঘুম থেকে উঠে দেখলাম বালিশে এতগুলো চুল লেগে আছে, তখন মন খারাপ খুব হত। হতাশ আমি তখনই হলাম যখন দেখলাম আমার চুল পড়ার পরিমাণটা দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছিল।

আপনি কি জানেন যে অবন্তি, ইশানা, ত্রয়ী এবং আমার মতো প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের চুল হারাচ্ছে নানা কারণে? চুল পড়া স্বাভাবিক যখন প্রতিদিন ৫০-১০০ টি চুল পড়বে আপনার। এটি সমস্যার আকার ধারণ করে তখনই যখন এই পরিমাণটা তার সীমারেখা অতিক্রম করে। সমস্যা একটা হলেও সমস্যার কারণ কিন্তু এক নাও হতে পারে অনেক সময়ই। নানা কারণে মানুষের চুল পড়তে পারে। তবে সমস্যা খুঁজে পাওয়া যত সহজ মাঝে মাঝে তার সমাধান পাওয়াটা অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়ে। আর এখনকার বাজারে পাওয়া যায় নানাধরনের প্রসাধনী সামগ্রী যেগুলো আপনাকে চুল পড়া বন্ধ হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয় কিন্তু আসলে সেই অনুযায়ী কাজ করে না। আর এসব সমস্যার মধ্যে দিয়েই পার হল আমার কিছুদিন।

অবশেষে আমি আমার চুল পড়ার সমস্যার সমাধানটা পেয়েই গিয়েছি।  আজ আমি আপনাদের সাথে একটা রেসিপি শেয়ার করতে চাই। যেটা ব্যবহারের পর আমার অতিমাত্রায় চুল পড়াটা কমে এসেছে।  আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক-

উপকরণ

  • প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা হেয়ার অয়েল- ২ টেবিল চামচ
  • পেঁয়াজের রস- ১ টেবিল চামচ
  • মধু- ১ টেবিল চামচ

তৈরি প্রনালী

 একটি পাত্রে সবগুলো উপাদান ভালো করে মিশিয়ে নিন।

 এরপর মাথার স্কাল্পে ভালো করে মাসাজ করে নিন এবং চুলের বাকি অংশে লাগিয়ে নিন।

 ১-২ ঘন্টা অপেক্ষা করুন।

 এরপর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিন এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করুন।

টিপসঃ  

** ১-২ ঘন্টা শুধু শুধু বসে না থেকে চাইলে আপনার যেকোন কাজ করে নিতে পারেন বাসার।

** এই প্যাকটি সপ্তাহে ১-২ বার ব্যবহার করুন।

** যারা প্যাকটি ১ বারই লাগাতে পারবেন সপ্তাহে তারা সপ্তাহে দুইদিন অন্তত মাথায় শুধু তেলটি ব্যবহার করুন। পারলে সারারাত মাথায় তেল রেখে পরের দিন শ্যাম্পু করুন।

** এই নিয়ম মেনে চললে আপনি এক থেকে দেড় মাসের মধ্যেই আপনার চুলের পরিবর্তন দেখতে পাবেন।

 

আমি যেই উপাদানগুলো ব্যবহার করেছি হেয়ার প্যাকটিতে এখন সেগুলোর উপকারিতাটাও আপনাদের জানিয়ে দেই।

(১) প্যারাস্যুট অ্যাডভান্সড এক্সট্রা কেয়ারঃ চুলের প্রধান খাদ্য তেল এটা আমরা কম বেশি সকলেই জানি। আর যাই ব্যবহার করি না কেন সাথে তেল যদি ভাল না হয় তবে চুলের জন্যে আর কোন কিছুই তেমন কাজ করবে না। এই তেলটিতে রয়েছে সব প্রাকৃতিক উপাদান আমলকি, মেথি এবং অ্যালোভেরা। যা আপনার চুলকে দেয় এক্সট্রা নরিশমেন্ট। এই তেল ব্যবহারের ফলে চুল পড়া অনেক বেশি কমে যায় আর চুল হয়ে উঠে অনেক বেশি সুন্দর, লম্বা এবং ঝলমলে। কারণ এই তেলে রয়েছে-

  • মেথি- যা চুল পড়া কমায় আর চুলকে করে তুলে হেলদি।
  • আমলকি- চুলের গোড়া শক্ত করে এবং চুল পড়া কমায়।
  • অ্যালোভেরা- ন্যাচারাল কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে আর চুলকে করে কোমল এবং মসৃণ।

আমি তাই এই তেলটি ব্যবহার করেছি। কারণ এতে রয়েছে সব প্রাকৃতিক উপাদান। আর চুল পড়া কমাতে এটি আসলেই কাজ করে।

(২) পেঁয়াজের রসঃ চুলের বেড়ে উঠায় পেঁয়াজের রস অনেক উপকারী। পেঁয়াজের রস চুল পড়া কমাতে এবং চুলের গোড়া শক্ত করতে সাহায্য করে।

(৩) মধুঃ মধু চুলের ময়েশ্চারাইজার হিসেবে কাজ করে। মধু ব্যবহারের ফলে চুল ভাঙ্গে না।

এই ছিল আমার রেসিপি এবং তার উপকারিতা। তবে আমার মতে চুল পড়া বন্ধ হওয়া বলতে কিছু নেই। শুধুমাত্র যে  আমার মনে হয় এমন না, রিসার্চ করেও জানা গিয়েছে চুল পড়বেই একটু, আর এটা স্বাভাবিক। তবে অস্বাভাবিক মাত্রায় চুল পড়লে আমাদের কিছু করনীয় আছে এটাই হল কথা। তাই আমি আমার চুল পড়াটা কমিয়েছি। এই প্যাকটি ব্যবহারের ফলে আমার চুল হয়েছে মসৃণ, কোমল এবং সুন্দর।

আমার কিন্তু আর ঘুম থেকে উঠে বালিশে চুল দেখতে হয় না। আর আমি কিন্তু আমার চুল পড়া বন্ধের রেসিপিটা আমার কাছের মানুষ অবন্তি, ইশানা আর ত্রয়ীকেই জানিয়েছি। আর ওদের সমস্যাগুলোর সমাধানও ওরা পেয়েছে। আমি চাই আপনারাও এটি জানুন এবং এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসুন। আর অবশ্যই আপনারাও আপনাদের কাছের মানুষদের জানান। কি? তাহলে আপনারা রেডী তো?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *